রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় | রক্তে এলার্জির কারণ ও লক্ষণ

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় হলো: এলার্জি যুক্ত খাবার ঔষধ বা সুগন্ধি পরিহার করা। ধুলোবালি থেকে সর্বদা নিজেকে দূরে রাখা। রক্তে এলার্জি কমানোর আরো অনেক উপায় রয়েছে। রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সমূহ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
সূচি নির্দেশনা

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায়

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সমূহ জেনে রাখলে খুব সহজেই আপনি রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। রক্তে এলার্জি কমানোর ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে। নিচে ঘরোয়া ভাবে রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। তো আসুন দেখে নেই, রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত। 

  • গ্রিন টি পান করুন: রক্তে এলার্জির মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে গ্রিন টি খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে রক্তে এলার্জির মাত্রা বহুরাংশে কমে যায়। তাই রক্ত এলার্জির মাত্রা কমানোর জন্য গ্রিন টি পান করতে পারেন।
  • অধিক মশার যুক্ত খাবার পরিহার করুন: অত্যধিক পরিমাণে মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে এলার্জির উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এলার্জি থেকে মুক্ত থাকতে অধিক পরিমাণে মশালে যুক্ত খাবার পরিহার করুন। 
  • স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করুন: আপনি যদি নিজেকে এলার্জি মুক্ত রাখতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। অস্বাস্থ্যকর এবং এলোমেলোভাবে খাবার গ্রহণ করলে রক্ত এলার্জির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
  • কাঁচা খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন: যেকোনো ধরনের খাবার কাচা গ্রহণ করবেন না এতে করে রক্তে এলার্জির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে যে সকল খাবারে এলার্জি হয় সে খাবার গুলো কখনোই কাঁচা অথবা অল্প রান্না করে খাওয়া যাবে না। 
  • টক দই খান: টক দই রক্তে এলার্জির মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপনি যদি রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে টক দই খান।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে চর্বি থাকলে এবং শরীর অধিক ভারী হলে রক্তে এলার্জির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে অবশ্যই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। 
  • অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন: অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খেলে রক্তে এলার্জির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন, রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • ওমেগা - ৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন: ওমেগা - ৩ রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই অনেক ওমেগা - ৩ সম্পন্ন খাবার খেতে পারেন। খেতে পারেন খুব সহজে রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। 
  • ফাস্টফুট পরিহার করুন: ফাস্টফুট তৈরি করার জন্য যে সকল ইনগ্রেডিয়েন্টস ব্যবহার করা হয় সেগুলোর অধিকাংশই এলার্জি উৎপন্নকারী। আর এ কারণেই রক্তে এলার্জির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফাস্টফুড পরিহার করে চলতে হবে। 
  • স্যাতস্যতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন: স্যাতস্যতে পরিবেশে এলার্জি বৃদ্ধি পায়। তাই আপনি যদি এনার্জি থেকে মুক্ত থাকতে চান তাহলে পরিবেশ পরিহার করতে হবে। 

রক্তে এলার্জি বেশি হলে কি হয় | রক্তে এলার্জি থাকলে কি হয়

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সমূহ সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। নিচে রক্তে এলার্জি বেশি হলে কি হয়? যে বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে আর্টিকেলের এই অংশের তথ্যগুলো মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। 

কেননা নিচে রক্তে এলার্জি বেশি হলে কি হয় বা রক্তে এলার্জি থাকলে কি হয়? সে বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই আপনি যদি আর্টিকেলের এই অংশে থাকা তথ্যগুলো মনোযোগের সাথে পড়েন তাহলে রক্তে এলার্জি বেশি হলে কি হয় বা রক্তে এলার্জি থাকলে কি হয় সেই বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। 

  • শরীরে র‍্যাশ ওঠা।
  • শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে চুলকানো।
  • অতিরিক্ত চুলকানির কারণে চামড়ার উপরের অংশ ছিলে যাওয়া।
  • শ্বাস গ্রহণে কষ্ট হওয়া।
  • বুক বা গলায় অতিরিক্ত পরিমাণে চাপবোধ হওয়া।
  • মুখ, ঠোট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া।

রক্তে এলার্জির ঔষধ | রক্তে এলার্জি কমানোর ঔষধ

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সমূহ অবলম্বন করার পরেও কোনভাবেই যদি রক্তে এলার্জির মাত্রা কমানো সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে রক্তে এলার্জির ঔষধ বা রক্তে এলার্জি কমানোর ঔষধ খেতে হবে। তবে মনে রাখবেন নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে রক্তে এলার্জি কমানোর ঔষধ সেবন করা যাবেনা। 
এলার্জির ঔষধ সেবন করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। আপনি যদি ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত রক্তে এলার্জির ঔষধ বা রক্তে এলার্জি কমানোর ঔষধ খান সেক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই সব ধরনের জটিলতা এড়াতে অবশ্যই আপনাকে ঔষধ খাওয়ার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 

  • Acitrin 
  • Atrizin 
  • Alargol 
  • Alatrol 
  • Cetizin 
  • Nosemin 
  • Rizin
  • Dyzin  
  • Citin
  • Cetmax 

রক্তে এলার্জির লক্ষণ

আপনার রক্তে এলার্জি রয়েছে কিনা তা কিছু লক্ষণের মাধ্যমে জানতে পারবেন। নিম্ন বর্ণিত রক্তে এলার্জির লক্ষণ সমূহ যদি আপনার মাঝে প্রকাশ পায় তাহলে ধরে নিতে পারেন যে আপনার রক্তে এনার্জি রয়েছে। তো আসুন তাহলে দেখে নেয়া যাক, রক্তে এলার্জির লক্ষণ সমূহ। 

  • নাক দিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে পানি ঝরা।
  • গলা চেপে আসা।
  • তলপেটে ব্যথা হওয়া।
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গা চুলকানো।
  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
  • শরীর চাকা চাকা হয়ে যাওয়া।
  • ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া।
  • অতিরিক্ত হাজির হওয়া।
  • পেট কামড়ানো।
  • বমি হওয়া।

রক্তে এলার্জি কেন হয়

রক্তে এনার্জি থাকলে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সম্পর্কে ইতোমধ্যেই উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো রক্তে এলার্জি কেন হয়? আর্টিকেলের এই অংশটি মনোযোগের সাথে পড়লে এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন। এলার্জি হওয়ার যে সকল কারণ রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।  

  • ফুলের পাপড়ি: ফুলের পাপড়ি বা পরাগরেনুতে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি রয়েছে। তাই কোনভাবে যদি পরাগরেনু আপনার ভেতরে প্রবেশ করে সে ক্ষেত্রে আপনার এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাই ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য সরাসরি ফুলে নাক লাগিয়ে দেয়া সমীচীন নয়। 
  • ধুলাবালি: ঘরে কিংবা বাহিরে থাকা ধুলাবালিতে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি রয়েছে। এ সকল ধুলাবালি নাকের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে শরীরে এলার্জি তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে আর ঘরের ভিতরে এয়ার ফিল্টার বসাতে হবে।
  • পালিত পশুর লোম: যে কোন ধরনের পালিত প্রাণীর পশমের মাধ্যমে খুব সহজেই এলার্জি ছড়াতে পারে। তাই পালিত পশুকে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং সরাসরি তাদের সাথে ওঠাবসা করা যাবে না। 
  • এলার্জি যুক্ত খাবার: আপনি যদি দীর্ঘদিন যাবত নিয়মিত এলার্জি যুক্ত খাবার গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে আপনার এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এলার্জি থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে এনার্জিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। 
  • অ্যালার্জিযুক্ত ঔষধ: কিছু কিছু ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ফলে এলার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ও সৎ সমান করার পূর্বে সেই ঔষধটি এনার্জি উৎপাদক কিনা তা জেনে নিতে হবে। 
  • পোকামাকড়ের কামড়: অনেক সময় পোকামাকড়ের কামড়ের কারণেও এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সর্বদা সাবধান থাকতে হবে। 

রক্তের এলার্জি কমানোর উপায় | রক্তে এলার্জি দূর করার উপায়

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। আর্টিকেলটির এই অংশে আরও কিছু উপায় উল্লেখ করা হবে। আশা করি নিম্ন বর্ণিত রক্তের এলার্জি কমানোর উপায় বা রক্তে এলার্জি দূর করার উপায় সমূহ সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে পারবেন। 

  • ধূমপান পরিহার করুন।
  • অ্যালকোহল পরিত্যাগ করুন।
  • এলার্জি যুক্ত খাবার পরিহার করুন।
  • এলার্জিযুক্ত সুগন্ধি পরিহার করুন।
  • বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • ঘরে এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করুন। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url