ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা | মেধা বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব

ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। একঘেয়েমি ভাবে সব সময় লেখাপড়া করা শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই পড়ালেখা করার পাশাপাশি অবশ্যই খেলাধুলাও করতে হবে।
সূচি নির্দেশনা

উপস্থাপনা

ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা, সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে কেননা অনেক শিক্ষার্থীকে রয়েছে যারা সর্বদাই পড়ালেখা করে খেলাধুলা বা শরীর চর্চায় তাদের আগ্রহ নেই। এই ধরনের শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের মানসিক এবং শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারে। 

তাই অভিভাবকবৃন্দ এবং শিক্ষকবৃন্দের উচিত হবে ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন করে তোলা। লেখাপড়া করার পাশাপাশি, খেলাধুলা না করলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধা গ্রস্থ হতে পারে। ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

ছাত্র জীবনে লেখাপড়া করার পাশাপাশি খেলাধুলা করলে যে সকল উপকার পাওয়া যায় সেগুলোর তালিকা নিচে তুলে ধরা হবে। নিম্ন বর্ণিত তালিকায় লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করার উপকারিতা ছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। তো যাই হোক আসন দেখে নেয়া যাক, ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে: লেখাপড়া বা শরীর চর্চার ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ ঘটে। যদি কোন শিক্ষার্থী সর্বদাই লেখাপড়ায় মগ্ন থাকে এবং শরীর চর্চা বা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা তার জন্য খুবই ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর এ কারণেই পড়ালেখা করার পাশাপাশি অবশ্যই খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। 

খেলাধুলা না করলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে না। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর অবস্থায় অবশ্যই আউটডোরে যেতে হবে, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতেই হবে। সুতরাং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর জন্য শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। 

মেধা শক্তি বৃদ্ধি পায়: কোন শিক্ষার্থী যখন নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করবে তখন তার মেধা শক্তি বৃদ্ধি পাবে। পরিশ্রম করলে, শরীর ঘেমে যায় এর ফলে অধিক পরিমাণে অক্সিজেন মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে। আর মস্তিষ্কে অধিক পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করার ফলে মেধা শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর তাই শিক্ষার্থীদের উচিত হবে, পড়ালেখার পাশাপাশি এই নিয়মিত খেলাধুলা করা। 
যারা ছাত্র জীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে, তারা তাদের তুলনায় অনেক বেশি মেধাবী, যারা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে না। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, মেধা শক্তি বৃদ্ধি করতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করার বিকল্প নেই। 

একঘেয়েমি দূর হয়: লেখাপড়া করার পাশাপাশি ছাত্র জীবনে খেলাধুলা করলে একদিন তো দূর হয়। অর্থাৎ আপনি যদি সব সময় পড়ালেখা করেন তাহলে আপনার একঘেয়েমিতা চলে আসবে। তখন ভালোভাবে পড়ালেখা হবে না অন্য কিছু হবে না। কিন্তু পড়ালেখার পাশাপাশি যদি আপনি খেলাধুলা করেন তাহলে এই ধরনের একঘেয়েমিতা থেকে মুক্তি পাবেন এবং ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারবেন। তাই ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক। 

ক্রিয়েটিভিটি বৃদ্ধি পায়: পড়ালেখার পাশাপাশি যদি আপনি খেলাধুলা করেন তাহলে আপনার ক্রিয়েটিভিটি বৃদ্ধি পাবে। আর লেখাপড়ায় ভালো করার জন্য ক্রিয়েটিভিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যদি ক্রিয়েটিভিটি বৃদ্ধি করতে চান সেক্ষেত্রে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে। 

স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করে: আপনি যদি পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করেন তাহলে আপনার শরীর স্থুল হতে পারবেনা। তাই স্থুলতা থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারেন। খেলাধুলা করলে শরীর এক্টিভ থাকে এবং শরীরের জমে থাকা ক্যালোরিগুলো বার্ন হয় এর ফলে অতিরিক্ত চর্বি শরীরে জমে থাকতে পারে না। যেহেতু অতিরিক্ত চর্বি শরীরের জমে থাকতে পারে না তাই স্থূলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। 

ছাত্র জীবনে খেলাধুলা করার আরো কিছু উপকারিতা

ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই উপরে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিজে আরো বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হবে। তাই আপনি যদি ছাত্র জীবনের খেলাধুলা করার উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে নিম্ন বর্ণিত তথ্যগুলো মনোযোগের সাথে পড়ুন।  

  • হার্ট শক্তিশালী হয়
  • ধমনী এবং শিরা পরিষ্কার থাকে
  • ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
  • রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
  • প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

উপসংহার

আপনি যদি প্রথম থেকে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই ছাত্র জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। আশা করি উপরে উল্লেখিত তথ্যগুলো আপনার অনেক উপকারে আসবে। তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url