কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার | কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সমূহ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তাই আপনি যদি কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আসুন জেনে নেয়া যাক, কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত।
সূচি নির্দেশনা

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে যদি আপনি বিস্তারিত তথ্য জেনে রাখেন তাহলে, জটিল এই রোগ থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাবেন। কেননা আপনি যদি কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে রাখেন তাহলে রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই আপনি উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। 

পক্ষান্তরে যদি আপনি কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে না জেনে রাখেন তাহলে কিন্তু সঠিক সময় এর চিকিৎসা করতে পারবেন না। এর ফলে রোগ জটিল ও কঠিন আকার ধারণ করতে পারে। তাই আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। নিচে কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। 

কিডনি রোগের লক্ষণ

আপনার কিডনি যদি কোন রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে। বিশেষ এই লক্ষণসমূহের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার কিডনি রোগাক্রান্ত হয়েছে। আর যত দ্রুত আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে আপনার কিডনি রোগাক্রান্ত হয়েছে, তত দ্রুত চিকিৎসা করতে পারবেন।
আর রোগের প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে না। আপনি যদি নিম্ন বর্ণিত কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ জেনে রাখেন, তাহলে আশা করা যায় কিডনি আক্রান্ত হলে খুব সহজেই আপনি তা ধরতে পারবেন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। যাইহোক আসুন দেখে নেয়া যাক, কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ।

  • জ্বর।
  • পিঠে ব্যথা হওয়া।
  • তলপেটে ব্যথা হওয়া।
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করা।
  • দূর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব।
  • প্রস্রাবের সময় রক্তঝরা।
  • শরীর অত্যাধিক পরিমাণে দুর্বল হওয়া।
  • বমি হওয়া।
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া।

কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সমূহ সম্পর্কে উপরে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।  আর্টিকেলটির এই অংশে কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে। ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে খুব সহজেই কিডনি রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। 

তাই আপনি যদি কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে রাখেন, তাহলে খুব সহজেই ঘরে বসেই কিডনি রোগের চিকিৎসা করতে পারবেন। যাই হোক নিচে,কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। 

আপনি যদি নিম্ন বর্ণিত তথ্যগুলো মনোযোগের সাথে পড়েন তাহলে কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। তো দেরি না করে আসুন জেনে নেয়া যাক, কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত। 

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
  • তলপেটে ব্যথা হলে হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করুন।
  • ব্যথার পরিমাণ বেশি হলে ব্যাথা নাশক ঔষধ সেবন করুন।
  • ক্যাফেইন জাতীয় পানিয় পরিহার করুন।
  • এলকোহল সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
  • প্রস্রাব চেপে রাখবেন না।
  • ধূমপান সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন।

কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায়

আপনার কিডনি যদি নরমাল থাকে অর্থাৎ কিডনিতে যদি কোন ধরনের সমস্যা না থাকে তাহলে অস্বাভাবিক কোন কিছু পরিলক্ষিত হবে না। অর্থাৎ আপনি যদি স্বাভাবিক থাকেন এবং আপনার প্রস্রাব করতে যদি কোন সমস্যা না থাকে এবং তলপেটে কোন ধরনের ব্যথা না হয় তাহলে অবশ্যই আপনার কিডনি ভালো রয়েছে। কেননা কোন কারণে যদি কিডনি অসুস্থ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে কিন্তু বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে। 

কিডনি রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে ইতোমধ্যেই উপরে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তাই আপনি যদি উপরে উল্লেখিত কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সমূহ মনোযোগের সাথে পড়েন, তাহলে কিডনিতে কোন ধরনের সমস্যা হলেই আশা করি বুঝতে পারবেন। যাইহোক, কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায় সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো

  • প্রস্রাবে দুর্গন্ধ থাকবে না।
  • প্রস্রাব করার সময় রক্ত ঝরবে না।
  • প্রস্রাবের উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হবে না।
  • দিনে কয়েকবার প্রস্রাব হবে।

কিডনি রোগের ঔষধের নাম

কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে যথাসময়ে এর চিকিৎসা করতে হবে। আপনি যদি যথাসময় কিডনি রোগের চিকিৎসা না করেন তাহলে কিন্তু পরবর্তীতে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। উপরে উল্লেখিত কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সমূহ যদি আপনি পড়ে থাকেন তাহলে কিডনিতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই তা ধরতে পারবেন। 

যাই হোক, কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা করার পরেও যদি সমস্যা দূর না হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। নিচে বেশ কিছু কিডনি রোগের ঔষধের নাম তুলে ধরা হয়েছে। 
ভুল করেও আপনি নিজে নিজে নিম্ন বর্ণিত ঔষধ গুলো ক্রয় করে সেবন করবেন না। কেননা, আপনি যদি ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত এই ঔষধ গুলো সেবন করেন তাহলে কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই সব ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ঔষধ সেবন করতে হবে। 

  • Osartil 
  • Losartan
  • Osartan 
  • Losium 
  • Losart 
  • Losan 
  • Losacor 
  • Preslow 
  • Larb 
  • Angilock 
  • Cardon 

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো

কিডনি ভালো রয়েছে কিনা তা জানার জন্য কিডনির পয়েন্ট জেনে নিতে হবে। আপনার কিডনি যদি নরমাল রেঞ্জে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে যে, আপনার কিডনির নরমাল রয়েছে। যাই হোক পুরুষের ক্ষেত্রে কিডনির নরমাল পয়েন্ট হলো ০.৭ থেকে ১.৪ এবং নারীদের ক্ষেত্রে নরমাল পয়েন্ট হলো ০.৬ থেকে ১.২ mg/dL। 

পরীক্ষার মাধ্যমে যদি উপরে উল্লেখিত হয় পয়েন্টের মধ্যেই আপনার কিডনির রেঞ্জ থাকে তাহলে আপনার কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ নরমাল রয়েছে। পক্ষান্তরে উপরে উল্লেখিত নরমাল পয়েন্টের চেয়ে কিডনির রেঞ্জ যদি বেশি কিংবা কম হয় সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। 

কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ

আপনার কিডনি যদি ড্যামেজ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে। যে লক্ষণ গুলোর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার কিডনি ড্যামেজ হয়েছে। কিডনি ড্যামেজ হওয়ার লক্ষণ সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো। তাই আপনি যদি কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে নিম্ন বর্ণিত তথ্যগুলো পড়তে হবে। 

আর আপনি যদি প্রথম থেকে এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই ইতিমধ্যেই কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। যাই হোক আসুন দেখে নেয়া যাক, কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ সমূহ। 

  • প্রস্রাব অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যাওয়া। 
  • প্রস্রাব অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
  • ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হওয়া। 
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হওয়া। 
  • কালো কিংবা চা রঙের প্রস্রাব হওয়া। 
  • শরীর ফুলে যাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। 
  • চোখের নিচে ফুলে যাওয়া। 
  • তলপেটে ব্যথা হওয়া। 
  • স্বাদ নষ্ট হওয়া। 

কিডনি ভালো রাখার উপায়

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সমূহ সম্পর্কে আর্টিকেলটির প্রথম অংশে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিচে কিডনি ভালো রাখার উপায় সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। কিডনি ভালো রাখার বেশ কিছু খাবার রয়েছে আপনি যদি সেই খাবারগুলো নিয়মিত খেতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনার কিডনি সুস্থ থাকবে। 
নিচে কিডনি ভালো রাখার উপায় সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। আপনি যদি নিম্ন বর্ণিত উপায় সমূহ যথাযথভাবে অবলম্বন করেন তাহলে আশা করা আপনি কিডনি সংক্রান্ত যাবতীয় রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। কিডনি ভালো রাখার উপায় সমূহ নিম্নরূপ। 

  • পর্যাপ্ত পানি পান করা।
  • পুষ্টিযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • ফলমূল খাওয়া।
  • শাকসবজি খাওয়া।
  • ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • চিনি যুক্ত খাবার কম খাওয়া।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url